logo
- - Apr 24, 2019 - Wed

   চট্টগ্রাম প্রতিদিন

একটি চক্র গণমাধ্যমে চালাচ্ছে অপ্রচার : বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের আতংকে জেলেরা!


মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী  : বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের আতংকে জেলেরা ! অন্যদিকে স্বার্থনে¦সী একটি মহল মাছ বাজার ও জেলেদের নিয়ে গণমাধ্যমে অপ্রচার চালাচ্ছেন বলে বার বার অভিযোগ করছে সাগরে মাছ অহরণকারী সংশ্লিষ্ঠরা।

চিত্রে থাকতে পারে: এক বা আরও বেশি ব্যক্তি, ব্যক্তিগণ বসে রয়েছেন, মহাসাগর, আউটডোর, জল এবং প্রকৃতিসরকার ইলিশমাছ ভরা মৌসুমে ২০শে মে থেকে ২৩শে জুলাই পযন্ত ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। প্রজ্ঞাপন নিয়ে মৎস্য ষংশ্লিষ্টরা  ক্ষুদ্ধ । প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলদস্যুদের আক্রমণ সব মিলিয়ে জেলেদের খারাপ সময় পার করতে হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়া আর জলদস্যু আতঙ্ক নিয়েই সাগরে যাচ্ছে জেলেরা। ইলিশ মৌসুমে সাগরে যখনই ইলিশ পরতে শুরু করে তখনই জলদস্যুদের তৎপরতাও বেড়ে যায়। একের পর এক জলদস্যু হামলায় ব্যাপক লোকসানের পরেও জীবনের ঝুকি নিয়ে জীবিকার তাগিদে যখনই সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছে তখনই মুক্তিপণের দাবীতে অপহৃত হচ্ছে জেলেরা। এ ভাবে জেলেদের জিবিকা নির্বাহ আর কত কাল চলবে জানে না সাগরের জেলে পরিবারগুলো।
জাতীয় নির্বাচনের আগ থেকে সাগরে জলদস্যু তৎপরতা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে তাই সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছে জেলেরা। জেলে বহরে প্রায়ই ঘটছে গুলির ঘটনা। জেলেদের ধাওয়া করে ব্যর্থ হলে জেলে ট্রলারে গুলি চালাচ্ছে দস্যুরা। বঙ্গপসাগরে জেলেদের জীবন এখন অরক্ষিত হওয়ায় অনেক জেলে ও ট্রলার মালিক তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।
একদিকে সংসারের ভরণপোষণে ব্যর্থতা, অপরদিকে অপহরণ থেকে উদ্ধার পেতে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন অধিকাংশ জেলে। ফলে অনেকেই পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে দেনার দায়ে এলাকাছাড়া হয়েছেন। বিশেষ করে যেসব জেলে মুক্তিপণ দিয়ে জলদস্যুদের কবল থেকে ফিরে এসেছে, সেসব পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে গেছে। এসব প্রতিকূলতা মাথায় নিয়েও সাগরে যাচ্ছে জেলেরা, ইলিশ শিকারই যে তাদের একমাত্র আরাধনা। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই আবারো সাগরে যেতে হচ্ছে তাদের, এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই জীবিকা নির্বাহ করার। জলদস্যুদের এমন তান্ডবে এখন ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়ছে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া এসব জেলেরা। তাদের মাঝে এখন বিরাজ করছে জলদস্যু আতংক। জেলেদের হারিয়ে একদিকে তারা যেমন শোকাহত তেমনি আতংকিত। তবে মৎস্য জেলে শ্রমিকরা দাবী করছে অপহৃত জেলেদের মুক্তিপন না দিলে তাদের কে হাত-পা বেধে সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে। একাধিক নামে বিভিন্ন গ্রæপে বিভক্ত হয়ে হামলা করছে জলদস্যুরা।
সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতি হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরে সহ¯্রাধিক মাছধরা ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। এ সময় জলদস্যুরা মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, ট্রলার, ট্রলারের যন্ত্রাংশসহ মালামাল লুটে নেয়। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণ করা হয়েছে অসংখ্যক জেলেকে। সেসব জেলেকে ফিরিয়ে আনতে কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে জেলে পরিবারগুলোকে। এই পযন্ত জলদস্যুদের হামলায় কয়েকশ জেলে নিহত ও প্রায় দুই হাজার জেলে আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত কোষ্টগার্ড ও র্যা বের অভিযানে জলদস্যু বাহিনীর বেশ কয়েক সদস্য বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ সময় যৌথবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করেছেন বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র।
জেলে সূত্রমতে,  প্রতিবছর বঙ্গোপসাগরে একের পর এক জলদস্যু বাহিনীর হামলার শিকার হয়ে শত শত জেলে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অনেকে ইলিশ ধরাও বন্ধ করে দিয়েছেন। এ সময় অপহরণ করা হয় একাধিক জেলেকে। পরে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে জেলেদের ছাড়িয়ে আনতে হয়েছে। অপহৃত জেলেরা জানান, জলদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী সাগর থেকে তাদের ধরে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণের দাবিতে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পেয়ে ছেড়ে দিচ্ছে।
এদিকে কোষ্টগার্ড সুত্রে জানান গেছে,অপহৃত জেলেদের উদ্বারের ব্যপারে নৌ বাহিনী ও কোষ্ট গার্ডের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। আর কোন জেলে যাতে অপহরিত না হয় সেদিকে কোষ্টগার্ড সজাগ রয়েছে। এবং বঙ্গপসাগরে কোষ্ট গার্ডের তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। জলদস্যু নির্মুল করে সাগরকে আবারো জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে,এমনটাই প্রত্যাশা উপকূলীয় জেলেদের।
মৎস্য ব্যবসা ধ্বংস করে দিতে এবং দেশের অর্থনীতির গতি থামিয়ে দিতে  একটি বিশেষ গোষ্টি গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে চট্টগ্রাম মৎস্য বাজার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বাবুল সওদাগর বলেন , মৎস্য বাজার উচ্ছেদে চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ (চবক) মৎস্য বাজার উচ্ছেদে নোটিশ দেননি । মৎস্য বাজারটি চবক থেকে ১৫ বছরের জন্যে লিজ নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা  হয়েছে। চবকে সম্পদ বিধায় বাজারটি বৈধ। বাজারের পাশে সংরক্ষিত ২ হাজার বর্গফুট ৭দিনের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছিলেন। নোটিশ পেয়ে এই জায়গা  চবককে বুঝিয়ে দিয়েছি। বর্তমান মৎস্য বাজার গুণগত  মান রক্ষার জন্যে এখানে যুগ-উপযোগী চাহিদামত বরফকল ও মৎস্য হিমাগার নিমার্ণ করা হয়েছে। এই বাজারের  মাধ্যমে  প্রায় ১০লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে।
সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতি সভাপতি মো:আলী বলেন বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ,ইলিশের প্রজননকালীনসহ বছরে ৮মাস ২৭দিন অথাৎ ২৬৭ দিন মাছ ধরা বন্ধ অবশিষ্ট ৮৮দিন মাছ আহরণ করা হয়। ইলিশমাছ ভরা মৌসুমে ২০শে মে থেকে ২৩শে জুলাই পযন্ত যদি ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ কার্যকর করা হয় তাহলে মৎস্যজীবিরা মারাত্মক ক্ষতির সমুখিন হবে এবং ইলিশ জেলেরা সমূলে ধ্বংশ হয়ে যাবে। মৎস্য সংশ্লিষ্টরা আথিকভাবে কেহই সচ্ছল নয়। মৎস্য আহরণ বন্ধ হলে শতকরা ৯০ ভাগ মাঝিমাল্লা পরিবার পরিজন নিয়ে উপোষ করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।  দেশে অর্থনীতিতে গামেন্টর্স সেক্টরের পর অর্থনীতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে সামুদ্রিক মাছ। সামুদ্রিক মাছ রপ্তানি করে দেশে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। এই ৬৫দিন  মাছ আহরণ বন্ধ থাকলে দেশের আমিষ চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি মাছ আমদানী করতে হবে। মাছ আমদানীর ফলে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। দেশ হারাবে মুল্যবান মুদ্রা।






আজকের সকল সংবাদ

  বিজ্ঞাপন প্যানেল

  সম্পাদকীয়

  অনলাইন জরিপ

  পুরনো সংখ্যা


 



  বিজ্ঞাপন প্যানেল