logo
- ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ - Nov 19, 2018 - Mon

   স্বাস্থ্য

৫০০ টাকায় ক্যান্সার শনাক্ত হবে!

৫০০ টাকায় ক্যান্সার শনাক্ত হবে!


নিউজ ডেস্ক : রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্তকরণের যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল গবেষক।

এতে খুব অল্প খরচে জানা যাবে কোনও ব্যক্তির শরীরে ক্যান্সার আছে কি নেই। যার জন্য সময় লাগবে ৫-১০ মিনিট এবং খরচ পড়বে ৫০০ টাকারও কম। আগামী এক বছরের ভেতরে মানুষ এই প্রযুক্তির সুফল পাবেন বলে জানান গবেষক দলের সদস্যরা।
গবেষক দলের সদস্য ড. শরিফ মোহাম্মদ শরাফউদ্দিন বলেন, ‘এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ২৫ সদস্যের গবেষণা টিম কাজ করে। যার মধ্যে পাঁচজন শিক্ষক এবং বাকিরা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি’র শিক্ষার্থী ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত থেকে লাল অংশ বাদ দিয়ে কেবল সেরাম ডিভাইসে দিলে প্যারামিটারে মান জানা যাবে। আর সেটা থেকেই বোঝা যাবে শরীরে ক্যান্সার আছে কি নেই।’ তবে এই পদ্ধতি ক্যান্সার নির্ণয়ে শতভাগ কাজ করবে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। ডিভাইসটির উন্নতির জন্য আরও কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি।
এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মূল বিষয় ‘নন-লিনিয়ার অপটিকস’ যা ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম যাত্রা শুরু করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাবিপ্রবিতে প্রথমে শিক্ষার্থীদের থিওরিটিক্যাল কোর্স আকারে বিষয়টি পড়ানো হতো। পরে ব্যবহারিক চর্চার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে তা ক্যান্সার শনাক্তকরণে কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষক দলের প্রধান ড. ইয়াসমিন হক। তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্তকরণের এই পদ্ধতি নিয়ে প্রথমে ১০ জন সাধারণ এবং ৬০ জন ক্যান্সার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর রক্তের সেরামে একটা পরিবর্তন আসে। নন-লিনিয়ার অপটিকস ব্যবহার করে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আগেভাগেই এর পূর্বাভাস পাওয়া যায়।’
ড. ইয়াসমিন হক আরও বলেন, ‘১৯৯৯ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রথম আবেদন করা হয় এবং সেখান থেকে পাওয়া ৮ লাখ টাকা দিয়ে এই নন-লিনিয়ার অপটিকসের মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্তকরণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালে হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ) এর সহায়তায় ৩ কোটি টাকার একটি ব্যাসিক প্রজেক্টের কাজ শুরু করা হয়। আর গবেষণার জন্য একটি নন-লিনিয়ার বায়ো-অপটিকস রিসার্চ ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সংগ্রহ করে গবেষণার কাজ শুরু হয়।’
তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ‘নন-লিনিয়ার অপটিকস ব্যবহার করে বায়োমার্কার নির্ণয়’ শীর্ষক প্রকল্পটি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের প্রকল্প হেকেপের আওতায় আনা হয় এবং ৬ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।  এই টাকা দিয়ে নন-লিনিয়ার বায়ো-অপটিকস রিসার্চেরর আরেকটি ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহায়তায় এই হেকেপ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।’
ড. ইয়াসমিন হক আরও বলেন, ‘২০১৬ সালের মার্চ মাসে দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ শুরু হলেও এর ফলাফল পাওয়া যায় অক্টোবর মাসে।  ফলাফল পাওয়ার পর সরাসরি তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রয়ারি মাসে গবেষণার এই কাজের থিওরিটিক্যাল কাজ শুরু করা হয়।’
শাবিপ্রবি’র এ ল্যাবরেটরিগুলোতে নন-লিনিয়ার অপটিক্স নিয়ে আরও উচ্চতর গবেষণা সম্ভব উল্লেখ করে ড. ইয়াসমিন হক বলেন, ‘গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের এখানে হাই পাওয়ার লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়।’
ক্যান্সার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্পর্কে বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্তকরণে দেশের গবেষকরা নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করায় আমরা গর্বিত। উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নে ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্যে গবেষণায় ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধিকতর গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বাংলাদেশ সক্ষমতা অর্জন করছে। ফলে ক্যান্সার শনাক্তকরণে নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে দেশের গবেষকরা। এ নিয়ে আমরা গর্বিত। এটি সম্পূর্ণ নতুন আবিষ্কার। শিক্ষা গবেষণায় বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। সব মানুষের কল্যাণে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।’




আজকের সকল সংবাদ

  বিজ্ঞাপন প্যানেল



  সম্পাদকীয়

  অনলাইন জরিপ

  পুরনো সংখ্যা


 



  বিজ্ঞাপন প্যানেল